ধর্ষণের পর বিচার চেয়ে ধর্ষকের মানববন্ধন, নিজেই গেলেন কারাগারে
পার্বতীপুরে ফেসবুক পরিচয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও অশ্লীল ছবি মোবাইলে রেখে তা ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় পার্বতীপুর রেল থানা-পুলিশ বিষ্ণু গোপাল মহন্ত ওরফে বাধনরাজ (১৯) নামে এক যুবককে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টায় গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার বিষ্ণু গোপালকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনাজপুর কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন শুরু হলে পার্বতীপুরে ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধনে অংশ নেয় বিষ্ণু গোপাল মহন্ত ওরফে বাধনরাজ। এ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া তার সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি মানুষের দৃষ্টিতে আসে।
এ ঘটনায় শুরুতে অনেকেরই ধারণা করেন, ধর্ষণ মামলায় আটক যুবক আর ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই যুবক এক নয়। তবে পরে মামলার তথ্যসূত্র ও ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মানববন্ধনের ওই যুবক যে একজনই তা অনেকেই নিশ্চিত বলে দাবি করছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত বিষ্ণু গোপাল মোহন্তের বাবার নাম বিশ্বজিত কুমার মোহন্ত (মানিক) ও মায়ের নাম জয়শ্রী রানি। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর কামারপাড়া।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে ভিকটিমের (১৬) সঙ্গে বিষ্ণু গোপালের পরিচয় ঘটে ফেসবুকের মাধ্যমে। বিষ্ণু গোপাল নিজেকে একজন মুসলমান যুবক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। গত ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় ভিকটিমকে ফেসবুকের মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাহেবপাড়ার বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে এবং তা মোবাইলে ধারণ করে।
মামলার বাদী মেয়েটির মা জানান, তার মেয়েকে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে আরও পাঁচবার ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে আমার মেয়ে ধর্ষকের ধর্মীয় পরিচয় জানার পর তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ের প্রস্তাব দেয় গত ১৬ আগস্ট। সে তা প্রত্যাখ্যান করে।
এরপর ধর্ষিতা নিজেই বিষয়টি বুঝতে পেরে তার কাছ থেকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেও পার পায় না।
গত ৯ অক্টোবর রাত অনুমান ১০টায় বিষ্ণু গোপাল তার মোবাইলে ধারণ করা অশ্লীল ছবি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে প্রকাশ করে। পার্বতীপুর রেল থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডিজিটাল আইনের (২০১৮) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২০০০ ৯(১) এর সংশোধনী ২০০৩ এর ২৫(২) ধারায় মামলা হয়েছে।