কক্সবাজার থেকে আরও সাড়ে ৬’শ রোহিঙ্গা চট্টগ্রামের পথে
নোয়াখালীর ভাসান চরে রোহিঙ্গা হস্তান্তরের চতুর্থ দফার দ্বিতীয় দিনের (প্রথম অংশে) কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ১৩টি বাসে করে ৬৪৭ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। এর আগে গতকাল রোববার চতুর্থ দফার (প্রথমদিনে) ২ হাজার ১৪ জন চট্টগ্রাম হয়ে আজ দুপুরে ভাসানচরে পৌঁছেছেন।
আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে ১৩টি বাসে করে সাড়ে ৬ শতাধিক রোহিঙ্গা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আজ বিকেলে আরও কিছু বাসে করে হাজার খানেক রোহিঙ্গা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা হবার কথা রয়েছে।
এ তথ্যটি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর কমান্ডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তারিক।
তিনি বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চতুর্থ দফার দ্বিতীয় দিনের (প্রথম অংশে) ১৩টি বাসযোগে সাড়ে ৬শতাধিক রোহিঙ্গা ভাসান চরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে রওনা হয়েছেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২জন, ২৯ ডিসেম্বর
দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার ৮০৪জন, ২৯ জানুয়ারি তৃতীয় দফার (প্রথম দিন) ১ হাজার ৭৭৮জন ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফার (দ্বিতীয় দিন) ১হাজার ৪৬৪জন ও আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফার (প্রথম দিন) ২ হাজার ১৪ জনসহ এ পর্যন্ত ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়েছে ৮ হাজার ৭০২ জনকে। ভাসানচরে আশ্রয় শিবিরে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। সেই লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া রোহিঙ্গা শিবির থেকে স্বেচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক এসব রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
তার আগে ২০২০সালের মে মাসে অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে উদ্ধার করার পর ভাসানচর নিয়ে যান সরকার।
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তা বলছেন, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক এমন প্রায় ২৩ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্য থেকে চতুর্থ দফায় হস্তান্তরের জন্য প্রায় ৪ হাজার জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এসব রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন শিবির থেকে ট্রাক ও বাসে তুলে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে জড়ো করা হচ্ছে ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প (প্রকল্প-৩) উপ-পরিচালক কমান্ডার মো আনোয়ারুল কবির আজ দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, চতুর্থ দফার (প্রথমদিনে) বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাঁচটি জাহাজ করে ২হাজার ১৪জন আজ দুপুরে ভাসানচরে পৌঁছেছেন। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাদের স্ব-স্ব ঘর বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।