May 26, 2022

ফরচুন নিউজ ২৪

বরিশালে পন্যবাহী জাহাজে ধর্মঘট চলছে, লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক

1 min read

খাদ্যভাতাসহ  ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে বরিশালে নৌযান ধর্মঘট চলছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ধর্মঘটের আওতায় কেবল মালবাহী জাহাজ রয়েছে। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকেই বরিশাল নৌবন্দর থেকে লঞ্চসহ যাত্রীবাহী সব ধরনের নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ভোর ৬টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের প্রকাশ্যে তেমন কোন কর্মসুচী দেখা যায়নি। তবে শ্রমিক নেতাকর্মীদের নৌবন্দর সংলগ্ন তাদের কার্যালয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল শাখার যুগ্ম সম্পাদক একিন আলী মাস্টার জানান, ধর্মঘটের আওতায় পন্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফেডারশনের কর্মীরা কাজ ফেলে অফিসে অবস্থান করছে। বরিশালে ২ শতাধিক শ্রমিক পন্যবাহী জাহাজে কর্মরত। তাছাড়া চট্টগ্রাম, মঙ্গলা, পায়রা সমুদ্র বন্দর, জাফলং, নারায়নগঞ্জের যেসব জাহাজ বরিশাল থেকে যাতায়াত করে সেগুলোর চলাচল বন্ধ রয়েছেতিনি বলেন, তারা খাদ্যভাতাসহ ১১ দফা নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে আন্দোলন করছেন। এ নিয়ে সরকারের মধ্যস্ততায় মালিকদের সাখে একটি চুক্তিও হয়েছিল। কিন্তু মালিক পক্ষ তা মানছে না। মালিকরা বার বার শ্রমিকদের সাথে টালবাহানা করছে। তারা বলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে। কিন্তু তারা ২০১৯ সালে একই দাবীতে ৩ বার ধর্মঘট পালন করেছেন।

তবে কাগো ভ্যাসেল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রী নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সোমবার রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত বিআইডবিøউটিএর প্রধান কার্যালয়ে শ্রমিকদের সাথে বৈঠক হয়।। ওই বৈঠকে বিআইডবিøটিএ প্রস্তাব দেয় যে খাদ্য ভাতার উপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা মালিক পক্ষ তুলে ফেলবে। শ্রমিকরাও ধর্মঘট প্রত্যাহার করবে। আর দাবীর বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু শ্রমিকরা তা না মেনে বৈঠক থেকে বের হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বার বার ধর্মঘটের কারন শ্রমিকরা সরকারকে অস্থিতিশীল পর্যায়ে ফেলতে চায়। আন্দোলনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ট খতিয়ে দেখার দাবী জানান তিনি।প্রসঙ্গত, নৌযান শ্রমিকদের ১১ দফা দাবীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, খাদ্যভাতা প্রদান, প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন, কর্মরনত অবস্থায় কোন শ্রমিকদের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরন প্রদান, ভারতগামী নৌযানের শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাশ প্রদান, নৌপথে নাব্যতা রক্ষা এবং নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতি ও পুলিশী নির্যাতন বন্ধ।