শুক্র. সেপ্টে ২৪, ২০২১

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

ঢাকা চীফ জুডিসিয়াল আদালত ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১ মিনিট পাঠের সময়

‘ঢাকা চীফ জুডিসিয়াল আদালত ভবন’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি আদালত ভবন উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে নির্মিত এই ভবনটি বুধবার উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান।

ঢাকার আদালত ভবন বর্তমানে ৯তলা পর্যন্ত করা হয়েছে। এতে ১৮টি এজলাস থাকবে। আইনজীবী সমিতি পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের নামে একটি মিলনায়তন। ঢাকা চীফ জুডিসিয়াল আদালত ভবনে ব্যয় হয়েছে (জমি বাদে) ৫২ কোটি ৮৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে কার্যক্রম শুরু হলে মামলা জট অনেকাংশে কমে যাবে। দেশের ৪২ জেলায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি জেলাগুলোতে দ্বিতীয় ধাপে নির্মাণ হবে। প্রতিটি জেলার জেলা জজ আদালত ভবন উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি গণপূর্ত বিভাগ ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাতে নেয়া হয়। ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিটি জেলায় ১০ থেকে ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে ভিত্তি দেয়া হয়েছে ১২ থেকে ১৩ তলা করার জন্য। ভবিষ্যতে আদালত ভবন ওপরের দিকে যাতে তুলতে পারা যায় সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের একটি রায় অনুযায়ী দেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের পৃথকভাবে পথচলা শুরু হয় ২০০৭ সালের ১ নবেম্বর। শুরুতেই আদালতগুলোতে বিশেষ করে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসের সংখ্যা ছিল খুবই কম। ফলে বিচারকরা এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারিক কাজ চালাতেন। এতে করে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হতেন, তেমনি মামলার জট দিনের পর দিন বেড়েছে। মামলা জট কমাতেই দেশের ৬৪ জেলায় এই আদালত ভবন তৈরি হচ্ছে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং তিনি অনুধাবন করেন এই বিভাগ শুধু আলাদা হলেই চলবে না। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে চলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এ জন্য অবকাঠামো তৈরি, গাড়ি সুবিধা, বিচারকদের উপযুক্ত বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ, নিয়োগ ও সময়মতো পদোন্নতি, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে পদক্ষেপ নেন প্রধানমন্ত্রী।

ইতোমধ্যে দেশের ১৫ জেলায় আদালত ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে। এই ভবনগুলো এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। যে সব জেলায় আদালত ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, জেলাগুলো হলো দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড় ও পটুয়াখালী। ১৪টি জেলায় আদালত ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এই জেলাগুলো হলো, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেয়াখালী, খুলনা, পাবনা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জ। ৩টি জেলায় আদালত কার্যক্রম শুরু করার উপযোগী ভবন প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশাল। ২০২১ সালের মধ্যে ৮ জেলায় আদালত ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

জেলাগুলো হচ্ছে, লক্ষ্মীপুর, রাঙ্গামাটি, সুনামগঞ্জ, ঝালকাঠি, মাগুরা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ। ২০২২ সালে আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হবে পিরোজপুর জেলায়। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে নেত্রকোনা জেলায় আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৩টি জেলায় প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে।