বৃহঃ. জুন ১৭, ২০২১

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

যা থাকছে নবনির্মিত মহিলা কারাগারে

১ মিনিট পাঠের সময়

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মাণ হলো দেশের দ্বিতীয় মহিলা কারাগার। প্রথমটি নির্মাণ হয় গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নবনির্মিত মহিলা কারাগারে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের রাখা হবে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত নারী বন্দির সংখ্যা বিবেচনায় এবং ঢাকাসহ সারাদেশের নারী বন্দিদের সুবিধার জন্য বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে।

কারা সূত্র বলছে, কারাগারটি উদ্বোধন করা হলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে আপাতত বন্দি রাখা হবে না। দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ কারাগারে কোনও বন্দি না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পৃথক সেলে যাতে বন্দির শ্রেণিবিন্যাস করে রাখা যায় সেজন্য আলাদা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন মহিলা কারাগারে মোট ৯টি ভবন রয়েছে। একটি ভবনের নাম বেগম রোকেয়া বন্দি ব্যারাক। যা কারাগারের প্রধান ভবন। এতেই সবচেয়ে বেশি বন্দি রাখা হবে। ৪তলা বিশিষ্ট এ ভবনে মোট ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে।

কারা সূত্র আরও জানায়, আরেকটি ভবন হচ্ছে ইলা মিত্র সেন ভবন। নতুন কারাগারটিতে ১২ জন ডিভিশনপ্রাপ্ত (প্রথম শ্রেণির বন্দি) রাখা হবে। যার নাম দেওয়া হয়েছে সুলতানা রাজিয়া ভবন। যেখানে ৪টি সেলে সর্বোচ্চ ৩ জন করে নারী বন্দি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ডা. কাদম্বিনী মেডিক্যাল ভবন বা কারা হাসপাতাল, কারাবন্দিদের চিকিৎসার জন্য ৩ তলা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রীতিলতা কিশোরী ভবনে কিশোর অপরাধ করে কারাগারে যাওয়া কিশোরীদের রাখা হবে।

জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসী, আলোচিত মামলার আসামি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সকল নারী বন্দি আটক রাখার জন্য দেশে এই প্রথমবারের মতো কারাগারের ভেতরেই পৃথকভাবে হাইসিকিউরিটি সম্পন্ন সেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উক্ত সেলে মোট ৩০ জন বন্দিকে আটক রাখা হবে। এছাড়া ফাঁসির সেল ও সাধারণ বন্দিদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে।

মানসিকভাবে অসুস্থ নারী বন্দিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে মেন্টাল ওয়ার্ড। এছাড়া, সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের নানা কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে উৎপাদন ওয়ার্ড ভবনে। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম গ্রন্থাগার ভবনে থাকবে নারী বন্দিদের জন্য পাঠাগার। এছাড়া কর্তব্যরত সকল কারারক্ষীর জন্য তৈরি করা হয়েছে গার্ড হাউস।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, কারাগার ভবনে রাখা যাবে ৩০০ বন্দিকে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কারাগারটি চালু হলে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ কাশিমপুর থেকে নারী বন্দিদের এনে রাখা হবে। এতে করে নারী বন্দিদের আবাসন সংকটসহ নানা সংকট কমবে।

নতুন মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মমিনুর রহমান মামুন বলেন, বর্তমানে গাজীপুর মহিলা কারাগারে সাড়ে আটশ বন্দি রয়েছে। নবনির্মিত কেরানীগঞ্জ মহিলা কারাগারের একটি ভবনে করোনা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির জন্য নতুন মহিলা কারাগারে বন্দিদের রাখা শুরু করতে কিছুটা সময় লাগবে।