রবি. এপ্রি ১১, ২০২১

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

ট্রাম্পের বিপক্ষে সব হিসাব 

১ মিনিট পাঠের সময়

তেসরা নভেম্বর আমেরিকায় ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী চার বছর হোয়াইট হাউজে তারা কাকে দেখতে চান। তারা কি চান ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো চার বছরের জন্যে ক্ষমতায় থাকুক নাকি সেখানে তারা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনকে বসাতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার ইতিহাসে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে অনেক ব্যতিক্রম এবং প্রার্থীদের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক পটপরিবর্তন, তার সাথে দেশটিতে করোনাভাইরাস মহামারির মারাত্মক প্রকোপের কারণে বদলে গেছে অনেক হিসেব নিকাশ।

নভেম্বরের নির্বাচনে যেসব বিষয়ের ওপর বিচার বিশ্লেষণ করে ভোটাররা তাদের রায় দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে করোনাভাইরাস, চাকরি-বাকরি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র নীতি, অভিবাসন

 

আগামী মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এরই মধ্যে অনেকেই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। দেশটির প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোও ট্রাম্প হেরে যাবেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এদিকে, জো বাইডেন ক্ষমতায় এলে চীনের পাশেই দাঁড়াবেন, আর সেটা ভারতের পক্ষে বিপজ্জনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস এক বিশেষ সম্পাদকীয় নিবন্ধে ট্রাম্পের পুনর্র্নিবাচনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্র্নিবাচন হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হুমকি—এ কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘ট্রাম্পের বিপর্যয় সৃষ্টিকারী চার বছর যুক্তরাষ্ট্রকে দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি ক্ষমতা অপব্যবহার করেছেন ও নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বৈধতা প্রদানে অস্বীকার করেছেন। যে নীতিমালা বছরের পর বছর এই দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে, তিনি তা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন।’ টাইমস এর রায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য। প্রায় একই ভাষায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে আরেক প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট। এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে এই পত্রিকা লিখেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের ‘সবচেয়ে মন্দ প্রেসিডেন্ট’।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্ব›দ্বী জো বাইডেন সম্পর্কে ওয়াশিংটন পোস্ট মন্তব্য করেছে, তিনি একজন যোগ্য ও সম্মানজনক প্রার্থী, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এই মুহূর্তে তাকেই প্রয়োজন। অন্যান্য প্রধান পত্রিকার মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, টাম্পা বে টাইমস, ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস ও ফ্লোরিডার সান-সেন্টিনেল বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছে। যে কয়েকটি প্রধান পত্রিকা ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য টেক্সাসের এল পাসো টাইমস ও বোস্টন হেরাল্ড। ট্রাম্প ইতিপূর্বে ঘোষণা করেছিলেন, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টসহ অধিকাংশ প্রধান পত্রিকা ও টিভি নেটওয়ার্ক তাকেই সমর্থন করবে। বলা বাহুল্য, সে কথা সত্য প্রমাণিত হয়নি।

শুধু জনমতে নয়, নিজ দলের ভেতরেই ট্রাম্পের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। নির্বাচনী বাতাস বিরুদ্ধে যাচ্ছে টের পেয়ে রিপাবলিকান দলের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা নিজেদের আনুগত্য পরিবর্তন করে নিচ্ছেন। যেসব রিপাবলিকান সিনেটর অথবা কংগ্রেস সদস্য পুনর্র্নিবাচনে দাঁড়িয়েছেন, তাদের মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি। বস্তুত এটি তাদের নিজেদের গা বাঁচানোর চেষ্টা। তাদের একজন হলেন নেব্রাস্কার সিনেটর বেন স্যাস, যিনি কঠোরতম ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান দল সিনেটে তার নিয়ন্ত্রণ হারাতে যাচ্ছে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এই মধ্যপন্থী রিপাবলিকান। এমনকি ট্রাম্পের দুই বিশ্বস্ত অনুসারী, সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন।