শুক্র. অক্টো ২৩, ২০২০

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

গালিগালাজ করলে মানসিক চাপ কমে!

১ মিনিট পাঠের সময়

ব্যবহারই মানুষের বংশের পরিচয়। কিন্তু ব্যবহারটা যদি খারাপ হয় আর সেটা যদি হয় গালিগালাজ তবে আর রক্ষা নাই। অন্যদিকে এই সব ‘মধুর বচন’ পরিবারের গুরুজন বা শিশুদের সামনে বা পাড়া-প্রতিবেশীদের সামনে মুখ ফসকে বেরিয়ে পড়লেই কেলেঙ্কারি! বংশ, জাত গেল গেল। এই গালিগালাজ আবার দ্রুত মানসিক চাপ কমিয়ে দেয় শুনলে নিশ্চয়ই অবাক হবেন!

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ, ক্ষোভ কাটাতে ‘গালিগালাজ’ অত্যন্ত কার্যকর! তবে এ ক্ষেত্রে স্থান, কাল, পাত্র জ্ঞান থাকাটাও জরুরি। তবে মানুষের বিশ্রী ভাষা ব্যবহার চেয়ে বরং আগ্রাসী মনোভাব দূর করা উচিত।

স্বস্তির নিঃশ্বাস কিংবা হতাশা, যাই প্রকাশ করতে চাই না কেন, এসব ক্ষেত্রে গালি দেওয়া কথাবার্তার একটা বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কারণ এ ধরনের শব্দের ব্যবহার, দুটি মানুষের মধ্যে দৃঢ় সু-সম্পর্ক এবং “ভালো মানসিক যোগাযোগ” নিশ্চিত করে।

সম্প্রতি মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা কিন্তু ‘কু-কথা’ বা গালিগালাজ বলার এই অভ্যাসকেই আমাদের সুস্থ থাকার সহজ উপায় হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন।

মানসিক চাপ, মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা, অবসাদ কমানোর ক্ষেত্রে গালিগালাজের অভ্যাস খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। একাধিক মার্কিন গবেষণায় যার প্রমাণ মিলেছে। এই ধারণার সঙ্গে একমত ব্রিটিশ গবেষক এবং মনোবিজ্ঞানীরাও।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক ও ফলিত ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কিরিকুস অ্যান্টনিও জানান, গালিগালাজ আসলে মন থেকে রাগ, ক্ষোভ বের করে দিয়ে মানসিক চাপ কাটানোর একটি সহজ উপায়। তার মতে, যে সব মানুষ উত্তেজিত হলেও গালিগালাজ দিতে পারেন না বা দেন না, তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ-সহ নানা স্নায়বিক সমস্যা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, কখনও এই সব ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বৈত ব্যক্তিত্বের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তুলনায় যারা সহজে গালাগাল দিয়ে ফেলেন, তারা অনেক বেশি সুস্থ থাকেন।

তাই মার্কিন গবেষক এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ, ক্ষোভ কাটাতে প্রয়োজনে একান্তে গালিগালাজ দেওয়া ভাল। তবে স্থান-কাল-পাত্র জ্ঞান থাকাটা অত্যন্ত জরুরি! না হলেই বিপদ! বিশ্রী ব্যবহার শুধু মানসিক চাপে জর্জরিত বা যারা অবসাদগ্রস্ত তাদের জন্য। সেক্ষেত্রে গালিগালাজ দেওয়ার জন্য অফিসে “গালির কক্ষ” স্থাপন করা যেতে পারে। রেস্টুরেন্টে থাকা ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীদের জন্য আলাদা জায়গার মতোই গালিগালাজ করার জন্যও আলাদা জায়গা করা যেতে পারে।

More Stories

১ মিনিট পাঠের সময়
১ মিনিট পাঠের সময়
১ মিনিট পাঠের সময়