বৃহঃ. অক্টো ২২, ২০২০

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

২০ বছর পর যেভাবে আসমা ফিরে পেল পরিবার

১ মিনিট পাঠের সময়

হারিয়ে যাওয়ার ২০ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে গেলো আসমা। বাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের হারিয়ে ছোট শিশুটি এখন সন্তানের মা হয়েছেন। আর তার বাবা-মা পৌঁছে গেছেন বার্ধক‌্যে। জীবনের নানান ঘাত প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দুই দশক পরে আসমার সঙ্গে তার মা-বাবা, ভাই-বোনের পুনর্মিলনটি হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে, সেখানে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী পৌরসভার কনভেনশন হলে এক আনুষ্ঠানিক পুনঃএকত্রীকরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জোহরা খাতুন আসমাকে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদুল্লাহ খাঁন সোহেল।

প্রসঙ্গত, ২০০০ সালে চট্রগ্রামে হারিয়ে যাওয়া আসমা নামের শিশুকে এক পরিবার বাসায় কাজ করাতে পথ থেকে নিয়ে যায়। একদিন মারধর করলে সে আবার পথে বেরিয়ে পড়ে। পরে নোয়াখালীর জনৈকা ফেরদৌসী কান্নারত আসমাকে কয়েকদিন নিজের হেফাজতে রাখেন। কিন্তু কেউ খোঁজ-খবর করছে না দেখে তিনি আসমাকে নিয়ে আসেন নিজের এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর গ্রামে।

তারপর নিয়তি তাকে বিভিন্ন জায়গায় টেনে নিয়েছে। পাঁচ বছর ছিলেন নোয়াখালীর টেলিফোন বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাদ কিসলুর বাসায়। এরপর আরও দুই বাসায় ছয় বছর থেকে পুনরায় ফরহাদ কিসলুর বাসায় ফিরে আসে। ফরহাদ কিসলুর সহধর্মিণী ফাতেমা জোহরা সীমা আসমাকে তার বাবার বাড়ি একলাশপুরে পাঠিয়ে দেন।

তখন ফাতেমা জোহরা সীমার বাবার বাড়িতে গৃহ নির্মাণের কাজ চলছিলো। আসমার সঙ্গে এক নির্মাণ শ্রমিকের হৃদয়ের আদান-প্রদান ঘটলে তারা পালিয়ে যায় চট্রগ্রামে। সেখানে তিন বছরের দাম্পত্য জীবনে একটা কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় আসমা।

কখনও সুখে, কখনও স্বামীর অত্যাচারে জীবন বয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ স্বামী প্রবাসে চলে গেলে আবার নোয়াখালীতে ফিরে আসে আসমা। আবারও আশ্রয় নেয় ফরহাদ কিসলুর বাসায়।

এবার জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফিরে আসা আসমাকে কীভাবে শেকড়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, ফরহাদ কিসলুর সহধর্মিণী সীমা স্থানীয় সাংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠুর সহযোগিতা চান। আসমা শুধু বলে দেওয়া নড়াই গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এটুকু সূত্র ধরে সাংবাদিক মিঠু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের বিটিভি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধির মাধ্যমে তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় খুঁজে পান আসমার পরিবারকে।