সোম. অক্টো ২৬, ২০২০

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছি

১ মিনিট পাঠের সময়

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের এই কালে বাংলাদেশ জনগণের জীবন ও জীবিকায় সমান গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। করোনা মহামারির কারণে এই প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনটি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে করোনা মহামারিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সবার ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। আমরা কেউই সুরক্ষিত নই, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি। এই ভাইরাস আমাদের অনেকটাই ঘরবন্দি করে ফেলেছিল। যার ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি আর্থনীতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।’

এ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠীকে সরকার শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমরা প্রতিবছর প্রায় ৩৯ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করি। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের জন্য ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সমাজের অনগ্রসর শ্রেণিসহ অন্যদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও ভাতার প্রচলন করেছি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ পরিবার উপকৃত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ বিস্তারের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছি। এতে এক কোটির বেশি পরিবার উপকৃত হয়েছে। আমরা ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছি। করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ ৫০ লাখ মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম পর্যায়ের প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়।’ সরকারি সহায়তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হয়ে তহবিল সংগ্রহ করে এতিম ও গরীব শিক্ষার্থী, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, স্কুল শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ যারা সাধারণভাবে সরকারি সহায়তার আওতাভুক্ত নন, তাদের মধ্যে ২৫০ কোটিরও বেশি টাকা বিতরণ করেছেন বলে জানান শেখ হাসিনা। ফলে সাধারণ মানুষকে করোনাভাইরাস খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ৩১-দফা নির্দেশনা জারি করেছিলাম। করোনাভাইরাস যেন ব্যাপকহারে সংক্রামিত হতে না পারে, তার জন্য আমরা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছি। যার সুফল হিসেবে আমরা লক্ষ্য করছি, ঋতু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশে যেসব রোগের প্রাদুর্ভাব হয়, এবার সেসব রোগ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

আর্থিক খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রফতানিমুখী শিল্প, শ্রমিকদের সুরক্ষা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল দেওয়া, রফতানি বাড়াতে ঋণ প্রদান, কৃষি ও কৃষকদের সহায়তা, কর্মসৃজনের জন্য ঋণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ, পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বীমা চালুকরণ— এরকম খাতগুলো প্রণোদনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা মোট এক হাজার ৩২৫ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা আমাদের মোট জিডিপি’র ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।