বৃহঃ. অক্টো ২২, ২০২০

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে চাঙ্গা হচ্ছে কাঁকড়া শিল্প

১ মিনিট পাঠের সময়

খুলনার অর্থনীতির অন্যতম লাভজনক খাত কাঁকড়া চাষ ও রফতানি। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে প্রায় ছয় মাস বন্ধ ছিল কাঁকড়া রফতানি। এতে লোকসান গুণতে হয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের। করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে কাঁকড়া চাষ চলেছে সীমিত পরিসরে। এ কারণে মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ফের শুরু হয়েছে কাঁকড়া রফতানি। চাঙ্গা হতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান এ শিল্প।

জানা গেছে, কাঁকড়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। কিন্তু দেশটিতে রফতানি বন্ধ হওয়ায় দরপতন হয়েছে কাঁকড়ার। এতে লোকসানে পড়েছেন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের প্রায় ২৫ হাজার খামারি। স্বাভাবিক সময় এ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ টন কাঁকড়া রফতানিকারকদের কাছে পাঠানো হতো। কিন্তু চীনে রফতানি বন্ধ থাকায় রফতানিকারকরাও কাঁকড়া কিনছেন না। এতে সময়মতো আহরণ না করায় খামারেই মরে যাচ্ছে অনেক কাঁকড়া।

রফতানিকারকরা জানান, চীনে কাঁকড়া রফতানির ক্ষেত্রে ঘেরের বর্ণনা, পানি, তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাষির তথ্য, কাঁকড়ার মান যাচাই, স্বাস্থ্যসনদসহ বেশ কয়েকটি নতুন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। জটিল এসব শর্ত মেনে কাঁকড়া রফতানি কঠিন হয়ে পড়েছে।

খুলনার পাইকগাছা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি দেবব্রত দাস জানান, বড় আকারের কাঁকড়া (প্রতিটি ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম) চলতি বছরের শুরুতে কেজিপ্রতি ১২০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা বর্তমানে ক্রেতা সংকটের কারণে ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লোকসানের ধাক্কা কাটিয়ে রফতানিতে ফিরছে খুলনার কাঁকড়া শিল্প

মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে এ অঞ্চল থেকে কাঁকড়া রফতানি হয়েছে ১২৮.৫২ মেট্রিক টন। করোনার কারণে চীনে রফতানি বন্ধ হওয়ায় জানুয়ারি-মার্চে রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫.৯৬ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিল ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, প্রতিবছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কাঁকড়া রফতানি হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ধস নেমেছে এ খাতে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁকড়া সাধারণত উপকূলবর্তী জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ সুন্দরবন এলাকায় চাষাবাদ হয়ে থাকে। সেখান থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এগুলো ঢাকায় যাওয়ার পর দেখা যায় তাদের শরীর থেকে পানি শুকিয়ে কিছুটা ওজন কমে যায়। কাঁকড়া সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে জলবিয়োগ ঘটায়। অনেক সময় কাঁকড়ার একটি পা খসে পড়লে তার ওজন পাঁচ থেকে ছয় গ্রাম কমে যায়। এ ধরনের ছোটখাটো অজুহাতেও কাঁকড়া রফতানি বাধাগ্রস্ত হয়।

কাঁকড়া রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান দিব্য এন্টারপ্রাইজের পরিচালক তপন কুমার জানান, এখন কাঁকড়া রফতানিতে ঘেরের তথ্য যাচাই, খামারির পরিচিতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্যসনদসহ বেশ কয়েকটি নতুন শর্ত দিয়েছে চীন। রফতানিকারকরা এসব শর্ত নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তারা শর্ত পূরণ করতেও রাজি আছে। এ ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করলেই রফতানিতে ফিরবে কাঁকড়া।