রবি. অক্টো ২৫, ২০২০

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

সৌন্দর্যে মুগ্ধকর দক্ষিণ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ মসজিদ

১ মিনিট পাঠের সময়

সুসজ্জিত একটি মসজিদের কথা বলছি, যা বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ মসজিদ বলে বিবেচিত। বরিশাল থেকে বানারীপাড়া বা নেছারাবাদ যেতে সড়কের পাশেই দেখা যাবে এ মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির নাম বায়তুল আমান জামে মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এটি গুঠিয়া মসজিদ নামে পরিচিত। বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের জাংগুরিয়া গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেই একটি দর্শনীয় স্থান। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে গোধূলি অবধি মসজিদটি দেখতে শত শত পর্যটক আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু চাংগুরিয়ার নিজবাড়ির সামনে প্রায় ১৪একর জমির উপর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ- ঈদগাহ্ কমপ্লেক্স এর নির্মান কার্যক্রম শুরু করেন।

২০০৬ সালে উক্ত জামে মসজিদ – ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়।এই মসজিদ কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি বৃহৎ মসজিদ-মিনার, ২০ হাজার অধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ্ ময়দান, এতিমখানা, একটি ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিংব্যবস্থা, লেক-পুকুরসহ বিভিন্নপ্ রজাতির ফুলের বাগান রয়েছে।

কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশ পথের ডানে বড় পুকুর।পুকুরের পশ্চিম দিকে মসজিদ,  এক সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লী নামাজ পড়তে পারে। মসজিদ লাগোয়া মিনারটির উচ্চতা ১৯৩ফুট । ঈদগার প্রবেশ পথের দুই ধারে দুটি ফোয়ারা আছে। এই মসজিদের নির্মাণ কাজে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার নির্মান শ্রমিক কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায় ।

শিল্পের ছোঁয়ায় তৈরি হয়েছে এই অনন্য সৌন্দর্যের স্থাপনা। যার ফলে প্রতিনিয়ত অসংখ্য দর্শনার্থী মসজিদটি এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন মানুষজন।

ঘুরতে গেলে বিকেলে যাওয়াই ভালো, কারণ দিনের বেলায় মসজিদ যতটা না তার নিজস্ব রূপ ফুটিয়ে তোলে, রাতের বেলা তার দ্বিগুণ সৌন্দর্য মেলে ধরে। রাতের মসজিদ সাজে বর্ণিল সাজে।

সন্ধ্যায় মসজিদের বাতি গুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই একটু একটু করে সৌন্দর্য বাড়তে থাকে। এই অপার সৌন্দর্য দেখে মনেই হবে না অজপাড়াগায়ে এত সৌন্দর্য লুকায়িত একটি মসজিদ রয়েছে এখানে। এখানে প্রবেশ করলে  মনে হবে যেন আপনি যেন মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদে প্রবেশ করেছেন মনেই হবে নাহ যে আপনি অজপাড়াগাঁয়ে রয়েছেন।

ছাড়া মসজিদটির সীমানার মধ্যে ঈদগাহ্ ময়দান, দিঘি, এতিমখানা, ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক, পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান রয়েছে। একটি হ্যালিপেডও রয়েছে। মসজিদের নকশায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মসজিদের নকশাকে অনুকরণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের স্তম্ভটি বিশ্বের বিভিন্ন পবিত্র স্থানের মাটি ও জমজমের পানি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

যেসব স্থান থেকে মাটি সংগৃহীত হয়েছে সেগুলো হলো- কাবা শরীফ, আরাফাতের ময়দান, মুযদালিফাহ, ময়দানে মিনা, জাবালে নূর পাহাড়, জাবালে সূর পাহাড়, জাবালে রহমত পাহাড়, নবীজীর জন্মস্থান, মা হাওয়া’র কবরস্থান, মসজিদে রহমত, মসজিদ এ কু’বা, ওহুদের যুদ্ধের ময়দান, হযরত হামজা (রা.) এর মাজার, মসজিদে আল কিবলাতাইন, মসজিদে হযরত আবু বক্কর (রা.), জান্নাতুল বাকী, মসজিদে নববী, জুলহুলাইফা-মিকাত, বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর হাতের লেখা তাবিজ ও মাজারে পাওয়া দুটি পয়সা এবং হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.) এর মাজারের মাটি।

মসজিদের দৃষ্টিনন্দন অসংখ্য ঝাড়বাতি ছাড়াও রয়েছে বাহারি নকশার আলোকবাতির ব্যবস্থা। এছাড়া বাইরে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স ঘিরেও করা হয়েছে বাহারি আলোকসজ্জা, যা রাতের মসজিদের সৌন্দর্যকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য মসজিদের নিজস্ব দু’টি জেনারেটর রয়েছে।

কিভাবে যাবেন

মসজিদটি দেখতে হলে প্রথমে বিভাগীয় শহর বরিশাল আসতে হবে। বরিশাল থেকে সিএনজি কিংবা অটোরিক্সা যোগে ১১ কিলোমিটার দূরত্বের গুটিয়া মসজিদে যেতে পারবেন।

বাসে ঢাকা থেকে বরিশাল

সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকার গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে ভোর ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত নিয়মিত ভাবে বাস বরিশালের পথে যাত্রা করে। বাসগুলো সাধারণত পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে বরিশাল যায়, তবে কিছু বাস মাওয়া ঘাট পাড় হয়ে বরিশালের দিকে যায়। ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো বরিশাল শহরের নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এসে থামে।

ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে হানিফ পরিবহন (01713-049559), ঈগল পরিবহন(02-9006700), শাকুরা পরিবহন (01729-556677) অন্যতম। বরিশাল যেতে এসি এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এই রুটে বেশ কিছু লোকাল বাস চলাচল করে সময় বাঁচাতে এসব বাস এড়িয়ে চলাই উত্তম। এসব বাসে বরিশাল যেতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া লাগে।

নৌপথে বা লঞ্চে ঢাকা থেকে বরিশাল

ঢাকার সদরঘাট থেকে রাত ৮ টা থেকে রাত ৯ টার মধ্যে সুন্দরবন ৭/৮, সুরভী ৮, পারাবত ১১, কীর্তনখোলা ১/২ লঞ্চ গুলো বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আর সকালে যেতে চাইলে গ্রিনলাইন লঞ্চে যেতে পারেন। রাতে যাত্রা করা লঞ্চগুলো ভোর ৫ টার দিকে বরিশাল পৌঁছায়। এসব লঞ্চের ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৬০০ টাকা এবং ভিআইপি কেবিন ভাড়া ৪৫০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

বরিশালে বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে, যেগুলোতে অনায়াসে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল হক ইন্টারন্যাশনাল (01718-587698), হোটেল গ্র্যান্ড প্লাজা (01711-35731801917-458088), হোটেল প্যারাডাইজ টু ইন্টারন্যাশনাল (01717-07268601724-853590), হোটেল এথেনা ইন্টারন্যাশনাল (0431-651060431-65233) উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন

সামুদ্রিক খাবারের আয়োজনে বরিশাল অঞ্চলের বেশ সুখ্যাতি আছে। এছাড়া স্থানীয় রেস্টুরেন্টে দেশী ও স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।