শুক্র. সেপ্টে ২৫, ২০২০

Fortune News 24

ফরচুন নিউজ ২৪

স্বামীর সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার দিয়ে হাইকোর্টে বিধবা হিন্দু নারীর: যুগান্তকারী রায়

১ মিনিট পাঠের সময়

ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের! এখন থেকে বাংলাদেশের হিন্দু বিধবা নারীরা স্বামীর সব সম্পত্তির অধিকার পাবেন। অ-কৃষিজমির অধিকার আগে থেকেই ছিল। এখন থেকে কৃষিজমির অধিকারও লাভ করবেন হিন্দু বিধবা মহিলারা।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, হাইকোর্টের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন।

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিধবা নারীরা স্বামীর কৃষি জমিতে ভাগ পাবেন উল্লেখ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

উল্লেখযোগ্য যে, দীর্ঘ ৮৩ বছর ধরে স্বামীর কৃষি জমিতে কোনো প্রাপ্য ছিল না হিন্দু বিধবাদের। নারী-পুরুষের সমানাধিকার নেই; পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী নির্যাতন বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। বর্তমান এই নির্যাতনের হার দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এর মাঝে হাইকোর্টের এই রায় স্বভাবতই আনন্দিত করেছে হিন্দু নারীদের।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই অসঙ্গতি দূর করে হিন্দু বিধবা মহিলাদের স্বস্তি দিয়ে এই রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এই রায়ের ফলে হিন্দু নারীরা সেই উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পেলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হিন্দু বিধবা নারীদের স্বামীর কৃষি জমির অংশ পাওয়ার অধিকার নেই, এর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে খুলনা কোর্টে মামলা করেছিলেন এক নারীর দেওর। নাম জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল।

আদালত সেই মামলার রায়ে বলেছিলেন যে, ‘হিন্দু বিধবারা স্বামীর অ-কৃষি জমিতে অধিকার লাভ করলেও কৃষি জমির অধিকার পাবেন না।’

এরপরই সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। পরে দু’পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিয়ে হাইকোর্ট এরপর রায়ে জানিয়েছেন, ‘হিন্দু বিধবা নারীরা অ-কৃষি জমির যেমন মালিকানা পাবেন ঠিক তেমনি স্বামীর কৃষি জমির মালিকও হবেন। সেখানে কোন ভেদ থাকবে না”।

২ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একজন বিধবা নারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ নাফিউল ইসলাম।

এই মর্মে তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের মধ্যে সাধারণত বিধবা নারীরা স্বামীর বসতভিটার মালিকানা লাভ করতেন। আজকের এ রায়ের ফলে হিন্দু বিধবা নারীরা এখন থেকে কৃষিজমিরও মালিকানা পাবেন।’

সৈয়দ নাফিউল ইসলাম আরো বলেন, “এতদিন বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকারিত্বে যারা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে শাস্ত্রমতে পিণ্ডদান করতে পারেন তারাই মৃত ব্যক্তির একমাত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার’।

হাইকোর্টের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে একাংশ সচেতন মহল বলছে, দেশে নারীর অধিকার এভাবেই প্রতিষ্ঠা হোক। নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা হোক।