ফরচুন নিউজ ২৪

দুর্গম দ্বীপে উন্নয়নের ঝলক

1 min read

সাগরতীরে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। এ উপজেলার একটি ইউনিয়ন মাতারবাড়ি, যা মূল উপজেলা থেকেও বিচ্ছিন্ন। এখান থেকেই আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

গতি বাড়বে দেশের অর্থনীতিতে। অবশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগেই মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প আলো ছড়াতে শুরু করেছে দুর্গম অঞ্চলটিতে। প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীর উপস্থিতিতে চলছে মহাযজ্ঞ।

বিদ্যুৎ প্রকল্পের মহাযজ্ঞের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এখানকার জীবনযাত্রা। আগে যেখানে ছিল না কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাওয়া যেত না চায়ের দোকান। বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর সেখানেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য খাবার হোটেল। পিছিয়েপড়া অঞ্চলটির জীবনযাত্রায় লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি এই দ্বীপ অঞ্চলেই নির্মাণ হচ্ছে দেশের প্রধম গভীর সমুদ্রবন্দরযা মাতারবাড়ির উন্নয়নের গতি আরও বাড়ি দিয়েছে। একটা সময় কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে যেখানে যেতে হতো, সেখানেই এখন হবে চার লেনের রাস্তা। এছাড়া ইতোমধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কল্যাণে কোটি টাকা খরচে বড় বড় রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

সরকারের জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্যানুযায়ী, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পাশে কোহেলীয়া নদী, উত্তরে উজান টিয়া নদী এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। অত্যন্ত দুর্গম মাতারবাড়ি ইউনিয়নে প্রায় ৮০ হাজার লোকের বসবাস। লবণ ও মাছ চাষ এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। এখানে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের চিত্র ভয়াবহ। শিক্ষা-দীক্ষায় দেশের অন্যান্য জনপদ থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে এই ইউনিয়নবাসী।

জাতীয় তথ্য বাতায়ন এমন তথ্য দিলেও মাতারবাড়ি যে এখন আর উন্নয়নবঞ্চিত নয়, সে কথা জানান এই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতারবাড়ির উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছেন। এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে। রাস্তাঘাটের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আগে এখানে এক কাপ চা পাওয়া যেত না, এখন আমাদের এখানকার বাসিন্দারা হোটেলে বসে আয়েশ করে কফি খায়। এর সবকিছুই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর। সামনে আমাদের অঞ্চলে আরও অনেক উন্নয়ন হবে।’

দুর্গম অঞ্চলটিতে চলমান দুই মেগা প্রকল্পের মধ্যে ‘মাতারবাড়ি ২x৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার’ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। ‘মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন’ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। পাশাপাশি বাস্তবায়নাধীন এই দুই মেগা প্রকল্পের কিছু অংশ মাতারবাড়ির সঙ্গে ধলঘাটা ইউনিয়নেও পড়েছে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ নিলে এ অঞ্চলে উন্নয়নযজ্ঞ শুরু হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। পরিবেশ প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) প্রতিবেদন অনুমোদন হয় পরের মাসে, অর্থাৎ অক্টোবরে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন পায় ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রকল্প অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ১৬০৫ একর জমির ওপর চলছে ১২০০ মেগাওয়াটের আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মহাযজ্ঞ। দেশের বাইরে থেকে জাহাজে প্রকল্পের মালামাল নিয়ে আসার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি স্থায়ী জেটি, যেখানে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রকল্পের কিছু মালামাল নিয়ে একটি জাহাজ ভিড়েছে, যা মাতারবাড়িতে আসা প্রথম জাহাজ। আরও একটি স্থায়ী জেটির কাজ চলমান। যে জেটির কাজে ব্যবহার হচ্ছে ২০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন হ্যামার।